
আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ঢাকা কেন্দ্রীয়
কারাগারে বন্দী অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতের আঁধারে হত্যা করা হয় জাতীয়
চার নেতাকে। তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী
রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ,
মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
এই নির্মম
ঘটনার আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার
করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ষড়যন্ত্র,
ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দখলের ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে কারাগারে বন্দী অবস্থায়
৫০ বছর আগে হত্যা করা হয় জাতীয় এই চার নেতাকে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা
জেলহত্যা মামলা নামে পরিচিতি পায়।
১৯৭১ সালের
মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এ জাতীয় চার নেতা
ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে এ সরকার গঠিত হয় ও
শপথগ্রহণ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি
ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান।
এ সরকারের
নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। তাদের দক্ষ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে
মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, স্বাধীনতা
সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সংগঠিত করতে সব
আন্দোলন-সংগ্রামেও এ চার নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন
নৃশংস এ
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা
৮ এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনজন। সাজাপ্রাপ্ত এই ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই
ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন পলাতক
ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফেরার পর
২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি ধরা পড়েন এবং ওই মাসেই তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।
জাতীয় চার
নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল
আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত থেমে ছিল ২১ বছর। ১৯৯৬ সালের
জুন মাসে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।